Hyper Teem

হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন সভ্যতা [২০১৯]

হ্যালো বন্ধুরা। আবারো HyperTunesBd পক্ষ থেকে হাজির হয়ে গেলাম নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। আজকে আমি তোমাদেরকে প্রাচীন সভ্যতা সম্পর্কে কিছু বলবো। আশা করি তোমাদের সবার অনেক ভাল লাগবে।

ভারতের প্রাচীন সভ্যতা:

আপনার হয়তো বিভিন্ন ধরনের হলিউড মুভি দেখেছি। মুভিটা অনেক সময় দেখানো হয় যে বিশাল সমুদ্রের ঢেউ এসে বড় বড় বাড়িগুলো ভেঙে ফেলছে। বিশাল বড় বড় বীজগুলো পানির তলদেশে তলিয়ে যাচ্ছে।

একবার ভেবে দেখো যদি এটি বাস্তব হয়। যদি দশ হাজার বছর আগে এরকম কিছু হয়ে থাকে, কোন একটা সুনামি সবকিছুকে তার তলদেশে নিয়ে যাচ্ছে এমনকি হাজার বছরের ঐতিহ্য নষ্ট করে দিচ্ছে।

যারা বেঁচে ছিল তারা আবার প্রথম থেকে শুরু করেছে নতুন সভ্যতা।

আপনাদের হয়তোবা এসব শুনে মনে হচ্ছে কল্পবিজ্ঞানের কথা। কিন্তু আজকে আমরা কল্পবিজ্ঞান নিয়ে কোন কথা বলবো না। আর আমরা কল্পবিজ্ঞান থেকে বের হয়ে খুঁজবো অনেক মিসিং লিঙ্ক। যা আপনাদের জেনে আসা ইতিহাস কে পাল্টে দিতে পারে।

প্রাচীন কালের সময় যাত্রা

প্রচলিত ইতিহাসের বাইরে বেরিয়ে হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের শিখর খুঁজতে চলুন প্রাচীনকালের সময় যাচাই অংশগ্রহণ করি।

আজকে আপনাদের প্রিয় হাইপার টিউনস বিডি খুঁজবে সভ্যতার থেকেও আগের সভ্যতা। তাহলে চলুন শুরু করি।

মহেঞ্জোদারো জীবনযাত্রা

আজ থেকে প্রায় 3500 বছর আগের একটি শহর। যেখানে ছিল সুন্দর বাঁধানো রাস্তা একতলা দোতলা বাড়ি আবার সুন্দর ট্রেনের রাস্তা। এই সবকিছু মিলে ম্যানহাটনের মতন একটি বড় একটি শহর। এটা কিন্তু কোন কাল্পনিক কথা নয়। বিখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ মর্টিমার উইলার কুড়ি শতাব্দীর দিকে মহেঞ্জোদারো জীবনযাত্রা বর্ণনা শোনাচ্ছেন। যা পরে সত্য আবিষ্কার হয়েছে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতা মধ্যে মহেঞ্জোদারো সভ্যতা অন্যতম বলা চলে। কিন্তু এর শুরু কোথা থেকে? অথবা কোথায় শেষ?

এইগুলো নিয়ে বিশেষ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি এমন অনেক লিপি রয়েছে যা এখনো পড়া সম্ভব হয়নি।

আজ থেকে প্রায় 50 হাজার বছর আগে পৃথিবীর মানচিত্র কিন্তু এরকম ছিল না। সেই সময় পৃথিবীর জন্ম স্থান গুলো আজকের তুলনায় প্রায় 100 গুণ নিচে ছিল। 25 হাজার বছর পর থেকে বরফ গলতে শুরু করে এবং পানি বাড়তে থাকে। আর এই বেড়ে যাওয়া জল সে সময়কার সভ্যতাগুলো কে তলিয়ে দিয়েছিল।

ভারতের হারানো সভ্যতা

ভারতীয় সমুদ্র বিজ্ঞানী একটি দল 2001 সালে সামুদ্রিক দূষণের গবেষণা করার ফলে সমুদ্রের তলদেশে সমুদ্রতল থেকে 25 মাইল দূরে পরীক্ষা শুরু করেন। আর সে সময় সেই সামুদ্রিক বিজ্ঞানী দলগুলো হঠাৎ করে একটি প্রাচীন সভ্যতা শহর খুঁজে পান। সেখানে বিভিন্ন ধরনের বড় বড় পাথর ও বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্য ছিল। পাথরগুলো পরীক্ষা করে তারা বুঝতে পেরেছিল এই পাতাগুলো প্রায় নয় হাজার বছর পুরনো। হারিয়ে যাওয়া একটি গোটা সভ্যতা।

তুষার যুগের শেষের দিকে যখন বরফ গলে জল বেড়ে যায় তখন জলের নিচে হারিয়ে যাওয়া এক শহর, যার নাম প্রাচীন শহর দারোগা। যা বর্তমানে ভারতের গুজরাট রাজ্যে উপকূলীয় অংশে অবস্থিত।

সমুদ্রের তলদেশে পাথরের শহরটি পাওয়া যায় সে পাথরগুলো বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে এটা জানতে পারেন যে সে পাথরগুলো কোনটাই প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি হয়নি।

পৃথিবীর অন্যতম সি লেভেল সাইন্টিস্ট ডক্টর গ্রান মিল সিমুলেশন এর সাহায্যে দেখান পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠ গুলো কিভাবে পরিবর্তন হয়েছে বছরের পর বছর। এমনকি সমুদ্রের নিচের শহরের ধ্বংসাবশেষ তুষার ধ্বংসের শেষের দিকে, সব মিলিয়ে প্রায় 10 হাজার বছরের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই সময় থেকে যদি একটু এগিয়ে যাওয়া যায় তাহলে খুঁজে পাওয়া যাবে সিন্ধু সভ্যতা। যা মিশরীয় সভ্যতার সমসাময়িক।আচ্ছা এরকম কি হতে পারে না সমুদ্রের নিচে হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা বেঁচে যাওয়া কিছু মানুষ ই নতুন সভ্যতা গড়ে তুলল।

এই কথার ইঙ্গিত পাওয়া যাবে একমাত্র ঢলাভিরা তে। ডোলা বিরাতে খুঁজে পাওয়া গেছে 5000 বছরের ওয়াটার ব্লুম যা সিন্ধু সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত। ওয়াটার ব্লুম কি হচ্ছে একটি জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা। তাহলে কি সমুদ্রের নিচে হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা সিন্ধু নদীর তীরে বসবাসের স্থান করেছিল। তবে এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের কাছে সিন্ধু সভ্যতা আগে কি আর কোন সভ্যতা ছিল কিনা তার কোন সঠিক প্রমাণ নেই। কিন্তু বিজ্ঞানীরা গ্রামকেন্দ্রিক নামের আরেকটি সভ্যতা খুঁজে পেয়েছিলেন হিমালয়ের পাশে। তার মাঠে বন্যা থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো হিমালয়ের পাশে নতুন সভ্যতা গড়ে তুলেছিল। প্রাচীনকাল থেকে তো আমরা শুনি এসেছি আড্ডা খেয়েছি সভ্যতাগুলো সবসময় নদীর পাশে গড়ে ওঠে।

হিমালয় থেকে গাছের রং এই নদীর পাশে গড়ে উঠেছিল হরপ্পার আগের সভ্যতা। তাহলে কি এটাই সেই মিসিং লিঙ্ক। এটাই কি সেই প্রাচীন সভ্যতা। বলা চলে বেঁচে যাওয়া সভ্যতা।


তো বন্ধুরা আজকে পর্যন্ত ই। পরবর্তীতে আরও কিছু নতুন তথ্য এবং মজাদার কিছু নিয়ে হাজির হব। আজকের পোস্টে যদি তোমাদের কিছু জানার থাকে বা যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই তা কমেন্টে জানিয়ে দেবে। আর হা যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করতে বলবে না।

ধন্যবাদ

Share

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *